একটি শোক সংবাদ!
রাত
৯টা। সৈয়দপুর পৌর কমিউনিটি সেন্টারের এক সভা শেষ করে বাইকে উঠলাম। শহরের লাল-নীল
আলো ধীরে-ধীরে পিছনে পড়ে গেল। বাস টার্মিনাল পাড় হতেই চারদিকের আলো কমে এলো। কিছুদূর
এগোতেই বুঝলাম, রাতটা বেশ অন্ধকার। দূরপাল্লার বাসগুলো প্রচণ্ড গতিতে ছুটে যাচ্ছে।
সেইসাথে ছুটছে মাইক্রোবাস ও মালবোঝাই ট্রাক। থেকে-থেকে ঝড়ের মতো ছুটছে কিছু
মোটরসাইকেল। তাদের হেডলাইটের তীব্র আলো এসে চোখ ঝলসে দিচ্ছে।
আমি আমার বাইকের হেডলাইটটা উঁচুতে তুলতে চাচ্ছি কিন্তু উটছে না; উল্টো লাইটটা নিভে গেলো। আমার বুকটা ধুক্ করে উঠলো।
আবার চেষ্টা করলাম- না, কাজ করছে না।
নিচের ডিম লাইটের আলোতে সামনে দশহাতের বেশি কিছুই দেখা যাচ্ছে না। তবুও বাইকের গতি ৪৫ কিলোমিটার।
আমি আমার বাইকের হেডলাইটটা উঁচুতে তুলতে চাচ্ছি কিন্তু উটছে না; উল্টো লাইটটা নিভে গেলো। আমার বুকটা ধুক্ করে উঠলো।
আবার চেষ্টা করলাম- না, কাজ করছে না।
নিচের ডিম লাইটের আলোতে সামনে দশহাতের বেশি কিছুই দেখা যাচ্ছে না। তবুও বাইকের গতি ৪৫ কিলোমিটার।
আমার হাত কাঁপছে... চোখ স্থির রাখতে পারছি না।
ঠিক তখনোই-
দু’টি বাস গা ঘেঁষে চলে গেলো। তাদের বাতাসের ঝাঁপটায় ভারসাম্য হারিয়ে- রাস্তার পিচ থেকে নিচে নেমে গেলাম।
চারপাশে ধুলো। অন্ধকার... সামনে কিছুই দেখতে পাচ্ছি না।
আর ঠিক তখনোই- মনের ভেতর এক ভয়ঙ্কর দৃশ্য ফুটে উঠলো...
পিছন
থেকে একটা গাড়ী ধাক্কা দিলো।
আমি ছিটকে পড়লাম।
তারপর...
চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে গেলাম।
পিচঢালা রাস্তায় পড়ে রইল আমার নিথর দেহ। কয়েকহাত দূরে পড়ে রইল আমার বাইকটা।
চারদিক থেকে লোকজন ছুটে এলো।
কেউ চিৎকার করে বলছে- “হায় আল্লাহ! এটা কী হলো!”
কেউ ভিডিও করছে। কেউ ছলেবলে কৌশলে প্রাণপাখিটা ফেরানোর চেষ্টা করছে।
কেউ আমার পকেট হাতড়ে পরিচয় খুঁজছে। কিন্তু তখন আমি সবকিছুর বাহিরে...
ঠিক তখনোই-
দু’টি বাস গা ঘেঁষে চলে গেলো। তাদের বাতাসের ঝাঁপটায় ভারসাম্য হারিয়ে- রাস্তার পিচ থেকে নিচে নেমে গেলাম।
চারপাশে ধুলো। অন্ধকার... সামনে কিছুই দেখতে পাচ্ছি না।
আর ঠিক তখনোই- মনের ভেতর এক ভয়ঙ্কর দৃশ্য ফুটে উঠলো...
আমি ছিটকে পড়লাম।
তারপর...
চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে গেলাম।
পিচঢালা রাস্তায় পড়ে রইল আমার নিথর দেহ। কয়েকহাত দূরে পড়ে রইল আমার বাইকটা।
চারদিক থেকে লোকজন ছুটে এলো।
কেউ চিৎকার করে বলছে- “হায় আল্লাহ! এটা কী হলো!”
কেউ ভিডিও করছে। কেউ ছলেবলে কৌশলে প্রাণপাখিটা ফেরানোর চেষ্টা করছে।
কেউ আমার পকেট হাতড়ে পরিচয় খুঁজছে। কিন্তু তখন আমি সবকিছুর বাহিরে...
সাইরেন বাজিয়ে হাইওয়ে পুলিশ এলো।
আমার নিথর দেহটা, সাদা কাপড়ে মুড়িয়ে এম্বুলেন্সে তুলে নিলো। ছুটে চললো- হাসপাতালের মর্গে...
খবর পেয়ে ভাইয়া ছুটে এলো। পরিচিত-অপরিচিত সবাই জড়ো হলো।
তখন আমি আর কিছুই অনুভব করছি
না।
রাত
সাড়ে এগারোটা...
আমার বাড়ির সামনে এম্বুলেন্স এসে থামলো।
সাইরেনের শব্দ শুনেই- মা দরোজার দিকে ছুটে এলো।
আমার বাড়ির সামনে এম্বুলেন্স এসে থামলো।
সাইরেনের শব্দ শুনেই- মা দরোজার দিকে ছুটে এলো।
“বাবা আমার!” -একটা বুকফাটা চিৎকার দিয়েই মাটিতে লুটিয়ে পড়লো।
বাবা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন- চোখে পানি, মুখে কোন শব্দ নেই।
ভাইয়ার চোখ লাল, নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করছে।
আমাকে নামানো হলো।
মসজিদের
মাইকে ঘোষণা ভেসে এলো- “ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না-লিল্লাহি রাজিউন...”
চারদিক থেকে মানুষ ছুটে এলো।
উঠোনের এককোণে একটা চৌকি পাতা হলো। তার ওপর আমাকে শুয়ে দেয়া হলো।
কেউ মায়ের মাথায় পানি ঢালছে। কেউ বাবার কাঁধে হাত রেখে সান্ত্বনা দিচ্ছে। ঠিক তখনি-
বড়আপু দৌড়ে এলো। আমাকে দেখেই বুকফাটা কান্নায় চিৎকার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো।
এক এক করে সকল আত্মীয়স্বজন আসতে লাগলো- আপু, ভাইয়া-ভাবি, ফুপিরা ও পরিচিত-অপরিচিত অনেকেই...
পুরো বাড়িটা কান্নায় ভরে ওঠেছে। চারদিকে এক অদ্ভুত থমথমে পরিবেশ।
কুরআন তিলাওয়াতের মৃদু শব্দ আর থেকে-থেকে বুকফাটা আর্তনাদ।
এভাবেই কেটে গেলো রাত, ভেসে এলো ফজরের আযান...
সকাল
আটটা।
আমাকে গোসল দেয়া হলো। মাহফুয ও রোকন ভাইয়া আমাকে কাফন পরালেন।
তখনো মা ও আপুর কান্না আকাশ ফাটিয়ে দিচ্ছে।
ভাইয়া শেষবারের মতো আমাকে চুমু খেলো; তারপর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না- আমার বুকে ভেঙ্গে পড়লো।
বাবা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন- চোখে পানি, মুখে কোন শব্দ নেই।
ভাইয়ার চোখ লাল, নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করছে।
আমাকে নামানো হলো।
চারদিক থেকে মানুষ ছুটে এলো।
উঠোনের এককোণে একটা চৌকি পাতা হলো। তার ওপর আমাকে শুয়ে দেয়া হলো।
কেউ মায়ের মাথায় পানি ঢালছে। কেউ বাবার কাঁধে হাত রেখে সান্ত্বনা দিচ্ছে। ঠিক তখনি-
বড়আপু দৌড়ে এলো। আমাকে দেখেই বুকফাটা কান্নায় চিৎকার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো।
এক এক করে সকল আত্মীয়স্বজন আসতে লাগলো- আপু, ভাইয়া-ভাবি, ফুপিরা ও পরিচিত-অপরিচিত অনেকেই...
পুরো বাড়িটা কান্নায় ভরে ওঠেছে। চারদিকে এক অদ্ভুত থমথমে পরিবেশ।
কুরআন তিলাওয়াতের মৃদু শব্দ আর থেকে-থেকে বুকফাটা আর্তনাদ।
এভাবেই কেটে গেলো রাত, ভেসে এলো ফজরের আযান...
আমাকে গোসল দেয়া হলো। মাহফুয ও রোকন ভাইয়া আমাকে কাফন পরালেন।
তখনো মা ও আপুর কান্না আকাশ ফাটিয়ে দিচ্ছে।
ভাইয়া শেষবারের মতো আমাকে চুমু খেলো; তারপর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না- আমার বুকে ভেঙ্গে পড়লো।
লোকজন তাকে সরিয়ে নিলো।
আমার লাশের মুখ উন্মুক্ত করে দেয়া হলো- শেষবারের মতো সবাই আমাকে দেখছে আর হুহু করে উঠছে...
সকাল
সাড়ে নয়টায় আমার লাশ নেয়া হলো জানাযার ময়দানে। শত-শত মানুষ আমার জানাযায়
দাঁড়িয়েছে।
আমার সব বন্ধু-বান্ধব উপস্থিত হয়েছে; তাদের মাঝে আমার ছাত্ররাও এসেছে। বাল্যকালের বন্ধুদের মাঝে- প্রাইমারি, সেকেন্ডারি ও উচ্চমাধ্যমিকের বন্ধুরাও দাঁড়িয়েছে। সবাইকে একদিন উপস্থিত করতে চেয়েছিলাম- আজ তারা সবাই এসেছে।
বাবা আর ভাইয়া
কাঁপা গলায়, আমার জন্য ক্ষমা চাচ্ছে সবার কাছে।
জানাযা শেষে আমাকে শুয়ে দেয়া হলো- দাদির কবরের পাশে।
আমাকে দাফনের
তৃতীয় দিন...
মা এখনো স্বাভাবিক হতে পারেনি। ঘরের কোণায় বসে থাকে। ঠোঁট নড়ে কিন্তু শব্দ বের হয় না। কখনো গুণগুণ করে কাঁদে। কখনো হটাৎ আমার জামাকাপড় বুকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে ওঠে। মনে হয়, কাপড়ের ভাঁজে এখনো আমাকে খুঁজে পায় সে...
আপুরা চলে গেছে নিজ-নিজ সংসারে। বাড়িটা এখন অনেক বড় লাগে... অনেক ফাঁকা।
বাবা আর ভাইয়া নীরব মানুষ হয়ে গেছে। প্রতিদিন ফজরের নামাজ শেষে, আমার কবরের কাছে যায়।
ফজরের পর বাবা- আমার কবরের পাশে অনেক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। নরম কণ্ঠে সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াত করে।
কখনো-কখনো হুহু করে কেঁদে ওঠে। হয়তো চোখের পানি গড়িয়ে পড়ে আমার কবরের মাটিতে।
আজ ভাইয়া আমার
রুমে ঢুকলো। রুমটা যেন ছোট্ট একটা লাইব্রেরী। চারদিকে শুধু বই...
উত্তরের দেয়ালে কাঠের ফ্রেমে বাঁধা- হাতে লেখা একটি দেয়ালিকা; আর দক্ষিণের দেয়াল ঘেঁষে একটা কাঠের আলমারি- তাতে তাক ভর্তি বিভিন্ন বিষয়ের বই ঠাঁসা।
পড়ার টেবিলে সাজানো শতাধিক বই। টেবিল ল্যাম্পের সামনে পড়ে আছে- একটি খাতা আর ডায়েরি, তার ভেতরে একটা কলম।
দেয়ালে একটি বোর্ড। তাতে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক আত্মোন্নতির রিপোর্ট লেখা; সেইসাথে- কিছু পরিকল্পনা, কিছু হিসাব আর কিছু স্বপ্ন আঁকা। বোর্ডের নিচে- আমার ছবিসহ জন্মদিনের কিছু লেখা প্রিন্ট করা।
সবকিছুই ঠিকঠাক...শুধু মানুষটা নেই।
পড়ার টেবিলের ঠিক পাশেই- আরেকটি মাঝারী সাইজের টেবিল। এটাই ছিল আমার “ডিজিটাল কর্ণার”।
টেবিলের মাঝখানে ল্যাপটপ। ঢাকনা আধখোলা, যেন কোন কাজের মাঝখান থেকে উঠে গেছি।
ল্যাপটপের পাশে, সারি করে রাখা মোটা কয়েকটি বই। কীবোর্ডের সামনে খোলা একটি নোটপ্যাড- তাতে অর্ধেক লেখা কিছু লাইন, তার ওপর ক্যাপখোলা একটা কলম, চশমাটা পড়ে আছে পাশেই। মনে হচ্ছে, হটাৎ কোন আইডিয়া লেখার মাঝখানে এসে থেমে গেছে।
কতরাত এই টেবিলের সামনে বসে থেকেছি...
চেয়ারটা একটু বাঁকা হয়ে আছে। মনে হয়, এইমাত্র উঠে বেড়িয়ে গেছি- আবার এসে বসবো।
বিছানার পাশেও একটা বুকশেলফ। সাজানো বইগুলো যেন চুপচাপ তাকিয়ে আছে দরজার দিকে।
খাটের কার্ণিশে একটি জায়নামায ভাঁজ করা।
ভাইয়া কয়েক
সেকেন্ড সারা ঘরে চোখ বুলিয়ে, দেয়ালে টানানো বোর্ডের কাছে এলো। আমার ছবির ওপর হাত
বুলিয়ে, বিছানায় যেয়ে বসলো।
চোখের পানি মুছে, একটি পুরনো ডায়েরি হাতে নিলো। পাতা উল্টাতেই হুহু করে কেঁদে উঠলো। নিজেকে সামলাতে না পেরে, ডায়েরিটা বালিশের পাশে রেখেই- দ্রুত রুম থেকে বেরিয়ে গেলো...
ঠিক তখনই-
আমি বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালাম। বাইকের শব্দ শুনে মা দরজা খুলে বললো- “এতো দেরি হলো কেন?” তার কণ্ঠে একরাশ অভিমান।
আমি কিছু না বলে ভেতরে ঢুকলাম।
আমার রুমের দরজা খোলা দেখে মা’কে জিজ্ঞেস করলাম- “মা, আমার রুমে কে এসেছিল?”
মা বললো- “এই তো তোর ভাইয়া ছিল...”।
বালিশের পাশে তাকিয়ে দেখি, ডায়েরিটা সেখানে পড়ে আছে।
মা চেঁচিয়ে বললো- “টেবিলে খাবার দেয়া আছে, খেয়ে নিস্”।
ঘড়ির কাটাটা তখন ১১ ছুঁইছুঁই...
হটাৎ বুকের ভেতর কেঁপে উঠলো একটা প্রশ্ন- “আমি যদি সত্যিই না ফিরতাম?”
আমার লাশের মুখ উন্মুক্ত করে দেয়া হলো- শেষবারের মতো সবাই আমাকে দেখছে আর হুহু করে উঠছে...
আমার সব বন্ধু-বান্ধব উপস্থিত হয়েছে; তাদের মাঝে আমার ছাত্ররাও এসেছে। বাল্যকালের বন্ধুদের মাঝে- প্রাইমারি, সেকেন্ডারি ও উচ্চমাধ্যমিকের বন্ধুরাও দাঁড়িয়েছে। সবাইকে একদিন উপস্থিত করতে চেয়েছিলাম- আজ তারা সবাই এসেছে।
জানাযা শেষে আমাকে শুয়ে দেয়া হলো- দাদির কবরের পাশে।
মা এখনো স্বাভাবিক হতে পারেনি। ঘরের কোণায় বসে থাকে। ঠোঁট নড়ে কিন্তু শব্দ বের হয় না। কখনো গুণগুণ করে কাঁদে। কখনো হটাৎ আমার জামাকাপড় বুকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে ওঠে। মনে হয়, কাপড়ের ভাঁজে এখনো আমাকে খুঁজে পায় সে...
আপুরা চলে গেছে নিজ-নিজ সংসারে। বাড়িটা এখন অনেক বড় লাগে... অনেক ফাঁকা।
বাবা আর ভাইয়া নীরব মানুষ হয়ে গেছে। প্রতিদিন ফজরের নামাজ শেষে, আমার কবরের কাছে যায়।
ফজরের পর বাবা- আমার কবরের পাশে অনেক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। নরম কণ্ঠে সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াত করে।
কখনো-কখনো হুহু করে কেঁদে ওঠে। হয়তো চোখের পানি গড়িয়ে পড়ে আমার কবরের মাটিতে।
উত্তরের দেয়ালে কাঠের ফ্রেমে বাঁধা- হাতে লেখা একটি দেয়ালিকা; আর দক্ষিণের দেয়াল ঘেঁষে একটা কাঠের আলমারি- তাতে তাক ভর্তি বিভিন্ন বিষয়ের বই ঠাঁসা।
পড়ার টেবিলে সাজানো শতাধিক বই। টেবিল ল্যাম্পের সামনে পড়ে আছে- একটি খাতা আর ডায়েরি, তার ভেতরে একটা কলম।
দেয়ালে একটি বোর্ড। তাতে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক আত্মোন্নতির রিপোর্ট লেখা; সেইসাথে- কিছু পরিকল্পনা, কিছু হিসাব আর কিছু স্বপ্ন আঁকা। বোর্ডের নিচে- আমার ছবিসহ জন্মদিনের কিছু লেখা প্রিন্ট করা।
সবকিছুই ঠিকঠাক...শুধু মানুষটা নেই।
পড়ার টেবিলের ঠিক পাশেই- আরেকটি মাঝারী সাইজের টেবিল। এটাই ছিল আমার “ডিজিটাল কর্ণার”।
টেবিলের মাঝখানে ল্যাপটপ। ঢাকনা আধখোলা, যেন কোন কাজের মাঝখান থেকে উঠে গেছি।
ল্যাপটপের পাশে, সারি করে রাখা মোটা কয়েকটি বই। কীবোর্ডের সামনে খোলা একটি নোটপ্যাড- তাতে অর্ধেক লেখা কিছু লাইন, তার ওপর ক্যাপখোলা একটা কলম, চশমাটা পড়ে আছে পাশেই। মনে হচ্ছে, হটাৎ কোন আইডিয়া লেখার মাঝখানে এসে থেমে গেছে।
কতরাত এই টেবিলের সামনে বসে থেকেছি...
চেয়ারটা একটু বাঁকা হয়ে আছে। মনে হয়, এইমাত্র উঠে বেড়িয়ে গেছি- আবার এসে বসবো।
বিছানার পাশেও একটা বুকশেলফ। সাজানো বইগুলো যেন চুপচাপ তাকিয়ে আছে দরজার দিকে।
খাটের কার্ণিশে একটি জায়নামায ভাঁজ করা।
চোখের পানি মুছে, একটি পুরনো ডায়েরি হাতে নিলো। পাতা উল্টাতেই হুহু করে কেঁদে উঠলো। নিজেকে সামলাতে না পেরে, ডায়েরিটা বালিশের পাশে রেখেই- দ্রুত রুম থেকে বেরিয়ে গেলো...
আমি বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালাম। বাইকের শব্দ শুনে মা দরজা খুলে বললো- “এতো দেরি হলো কেন?” তার কণ্ঠে একরাশ অভিমান।
আমি কিছু না বলে ভেতরে ঢুকলাম।
আমার রুমের দরজা খোলা দেখে মা’কে জিজ্ঞেস করলাম- “মা, আমার রুমে কে এসেছিল?”
মা বললো- “এই তো তোর ভাইয়া ছিল...”।
বালিশের পাশে তাকিয়ে দেখি, ডায়েরিটা সেখানে পড়ে আছে।
মা চেঁচিয়ে বললো- “টেবিলে খাবার দেয়া আছে, খেয়ে নিস্”।
ঘড়ির কাটাটা তখন ১১ ছুঁইছুঁই...
হটাৎ বুকের ভেতর কেঁপে উঠলো একটা প্রশ্ন- “আমি যদি সত্যিই না ফিরতাম?”
[ নিজবাড়ি সৈয়দপুরে (নীলফামারী) অবস্থানকালে ]
আর্টিকেলটি 'সাপ্তাহিক হুবহু/লেখকপত্র/আত্মচিন্তার কথা/মনপত্র' -সহ একাধিক লিটলম্যাগ ও কলামে প্রকাশিত।
© লেখক কর্তৃক এর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)
ফুটপাতে শুয়ে থাকা লোকটাও মানুষ। সুতরাং তাকে দেখে নাক ছিটকাবেন না।
জনপ্রিয়গুলো দেখুন
-
নিস্তব্ধ গ্রামের রাত্রী। ঝিঁঝি পোকার শব্দে নির্জন পুকুরপাড়টা সচকিত হয়ে উঠেছে। আকাশে একফালি চাঁদ হেঁসে উঠেছে। দূরপল্লী থেকে কুকুরের ঘেউঘেউ ...
-
১৩-১৮ এবং ১৮-২৩ এই সময়গুলোকে স্বর্ণযুগ বলা যায়। জীবনকে সাজানোর সকল উপকরণ এই সময়ের প্রতিটি ভাঁজে ভাঁজে বিদ্যমান। এই বয়সগুলোর 'সঠিক প...
-
সবকিছু ভেবে দেখলাম, আরে! আমি যাকে ভয় পাচ্ছি, যাকে লজ্জা করছি, যার জন্য নিজেকে সুন্দর, সুশ্রী, পরিপাটি ও গুছিয়ে নিচ্ছি— এর শেষটাতে কী? পরিশ...
